ব্রিটিশ বুরলেস্ক মহৎ বিষয়কে তুচ্ছ করে তুলেছিল
বুরলেস্ক (Burlesque)-এর উৎপত্তি কোনো একটি নির্দিষ্ট নাচের কৌশলে নয়। শুরুতে এই শব্দটি বোঝাত এক ধরনের কৌতুকপূর্ণ উপস্থাপনাকে: মহৎ বিষয়কে নামিয়ে আনা হতো, আর সাধারণ বিষয়কে অতিরঞ্জিত গাম্ভীর্যে দেখানো হতো। উনিশ শতকের ব্রিটিশ থিয়েটারে এই পদ্ধতি জনপ্রিয় মঞ্চরূপ পায়। ভিক্টোরীয় বুরলেস্ক (Victorian Burlesque) প্রাচীন পুরাণ, শেক্সপিয়ারের নাটক এবং অপেরার মতো বিষয় অবলম্বন করে সেগুলোকে শব্দের খেলা, গান ও নাচের বিনোদনে রূপান্তরিত করত।
একজন প্রাচীন বীরের কথা কল্পনা করো, যিনি গম্ভীর ভাষণ দেওয়ার বদলে হঠাৎ দৈনন্দিন কোনো অসুবিধা নিয়ে অভিযোগ করছেন। চরিত্র আর আচরণের মধ্যে অমিল থেকেই হাস্যরস তৈরি হয়। পরিচিত সুরে নতুন কথা বসানো যেত, আর গভীর আবেগকে ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরঞ্জিত করা হতো। এর জন্য দর্শকদের মূল রচনার প্রতিটি খুঁটিনাটি জানা জরুরি ছিল না, তবে তার চেনা ভঙ্গি ও প্রত্যাশাগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার ছিল।
চরিত্রে অভিনয় করার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা নিয়ে খেলা হতো। যেমন, নারীরা পুরুষ বীরের ভূমিকায় অভিনয় করতেন। সে সময়ের নজরকাড়া পোশাক ও দৃশ্যমান পা জনসাধারণের মনোযোগের অংশ ছিল, তবে সেগুলোই বিষয়বস্তু পুরোপুরি ব্যাখ্যা করে না। প্রাথমিক মঞ্চ বুরলেস্ক ছিল লেখা, সংগীত, চরিত্র বদল এবং শারীরিক অভিনয়ের সম্মিলন। এই পূর্বসূত্র মঞ্চের চরিত্র নিয়ে কাজ হিসেবে বুরলেস্ক বোঝার দৃষ্টিভঙ্গিকে সমৃদ্ধ করে, তবে একে আধুনিক কোনো শিক্ষাপদ্ধতি বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ দেয় না।



